Thursday, August 22, 2024
Monday, April 22, 2024
মঙ্গলবার থেকে তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা, নেই বৃষ্টির সম্ভাবনা
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সোমবার (২২ এপ্রিল) তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) থেকে তাপমাত্রা আবার বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সূত্র বলছে চলতি এপ্রিল মাসের বাকি সময়টা তাপপ্রবাহ থাকতে পারে। তবে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ আর হবে না। দেশের দু-একটি জায়গায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও পুরো দেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নেই।
সোমববার (২২ এপ্রিল) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোর ও চুয়াডাঙ্গায়, ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববার (২১ এপ্রিল) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায়, ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় দক্ষিণের জনপদ যশোরে, ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি ছিল চলতি বছরের দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। ওই দিনই রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিও ছিল এ বছরে নগরীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। তবে গতকাল ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নগরীর তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যায়। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর আজ ঢাকার তাপমাত্রা আরও কমে হয়েছে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান বলেন, সোমবার থেকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। তবে মঙ্গলবার থেকে তা আবার বাড়তে পারে। আসলে এই মাসে তাপপ্রবাহ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ সকাল ৯টায় পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলেছে, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামের বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
দেশের ৪০টির বেশি জেলা সহ কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি এবং পটুয়াখালী জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে ।
বাড়ছে সব ধরনের ট্রেনের ভাড়া
আগামী ৪ মে থেকে ট্রেনের ভাড়া বাড়ছে। সোমবার (২২ এপ্রিল) বাংলাদেশ রেলওয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সব ধরনের যাত্রীবাহী ট্রেনে বিদ্যমান দূরত্বভিত্তিক রেয়াত সুবিধা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ রেলওয়েতে দূরত্বভিত্তিক ও সেকশনভিত্তিক রেয়াতি দেওয়া হয়। ২০১২ সালে 'সেকশনাল রেয়াত' রহিত করা হলেও দূরত্বভিত্তিক রেয়াত বলবৎ থাকে। সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়েতে যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোতে ভাড়া বৃদ্ধি না করে শুধুমাত্র বিদ্যমান দূরত্বভিত্তিক রেয়াত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সব প্রকার যাত্রীবাহী ট্রেনে বিদ্যমান দূরত্বভিত্তিক রেয়াত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি আগামী ৪ মে থেকে কার্যকর করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী বলেন, আগামী ৪ মে থেকে রেয়াত প্রত্যাহারের মাধ্যমে ট্রেনের ভাড়া সমন্বয় করা হবে।
রেলওয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ১০১-১৫০ কিলোমিটার ভ্রমণে ২০ শতাংশ, ১৫১-৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ২৫ শতাংশ আর ৪০০ কিলোমিটারের বেশি ভ্রমণে ৩০ শতাংশ একজন যাত্রী রেয়াত কর সুবিধা পান। এটিই বাতিল হচ্ছে।
সূত্র আরও জানায়, ৪ মে থেকে যদি একজন যাত্রী ট্রেনে ১০০ কিলোমিটারের বেশি ভ্রমণ করেন, তাহলে তাকে ভাড়া বেশি দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলের এই প্রস্তাবনা অনুমোদন করেছেন। যা এই মাসের ১ তারিখ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিলো।
Friday, April 19, 2024
সারাদেশে ৭২ ঘণ্টার হিট অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সারাদেশের ওপর দিয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। এই তাপপ্রবাহ আজ শুক্রবার থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অর্থাৎ তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। এসব তথ্য জানিয়ে আজ সারাদেশে ৭২ ঘণ্টার হিট অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের স্বাক্ষরিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বাড়তে পারে বলে সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়।
এদিকে আবহাওয়াবিদ তরিকুল নেওয়াজ কবির জানান, আজ চুয়াডাঙ্গায় ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
চু্য়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা তিন দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এ জেলায়।
চু্য়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠানামা করছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রায় খুব বেশি পার্থক্য না থাকায় অতিষ্ঠ এ অঞ্চলের জনজীবন।
প্রচণ্ড তাপদাহে এ অঞ্চলের হাসপাতালে বাড়ছে গরমজনিত রোগীর সংখ্যা। অসহনীয় গরমে বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। প্রয়োজনের তাগিদে ঘর থেকে বেরিয়েও কাজ করতে পারছে না তারা।
তীব্র তাপদাহে জনসাধারণকে সচেতন করতে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে পথচারী ও এলাকাবাসীকে সতর্ক করছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে নিষেধ করা হচ্ছে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে অনুরোধ করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান সমকালকে বলেন, বাতাসের আদ্রতা বেড়ে যাওয়ায় বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে। গত মঙ্গল ও বুধবার জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছিল যথাক্রমে ৪০ দশমিক ৬ ও ৪০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গত বছরের ১৯ ও ২০ এপ্রিল মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা অতি তীব্র দাবদাহ। কাছাকাছি সময়ে বৃষ্টি না হলে গত বছরের রেকর্ড এবার ভেঙে যেতে পারে।
এদিকে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে চলমান দাবদাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার দাবি উঠেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রীষ্মকালীন ছুটির আগেই গরমে ছুটির দাবি করেছেন কেউ কেউ।
দাবদাহের ব্যাপারে ইতিমধ্যে অধিদপ্তরে জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান। তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গায় চলমান দাবদাহের বিষয়টি অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। তবে এখনও কোনো নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা আসলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Source: Samakal Online
Tuesday, January 16, 2024
তাপমাত্রা 10 ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যেতে পারে
তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ করা যেতে পারে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (DSHE) এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আজ পৃথক জ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।"এ বিষয়ে, আঞ্চলিক উপ-পরিচালকরা, জেলা শিক্ষা অফিসারদের সাথে পরামর্শ করে, যদি জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা 10 ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে দেখা যায় [সংশ্লিষ্ট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী] তাহলে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে পারেন," তারা। যোগ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে পারে। আগের দিন, ডিএসএইচই কোনও জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা 17 ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নেমে গেলে স্কুলগুলি বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
Wednesday, January 10, 2024
মন্ত্রিসভার শপথ বৃহস্পতিবার, যেসব মন্ত্রণালয়ে আসতে পারে নতুন মুখ
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আরও পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এতে আবারও প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন শেখ হাসিনা। মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য কারা হচ্ছেন, তা নিয়ে নির্বাচনের পর থেকেই আলোচনা চলছে। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ হবে।
দলটির নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো বলছে, সবশেষ ৪৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা থেকে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী বাদ পড়তে পারেন। বয়স, নানা বিতর্ক বা অদক্ষতার দায়ে তারা ঝরে পড়তে পারেন। এরমধ্যে টানা তিন মেয়াদে মন্ত্রিসভায় আছেন-এমন বর্ষীয়ান নেতাও ছিটকে যেতে পারেন। এর বাইরে সর্বশেষ মন্ত্রিসভার তিনজন সদস্য নিজ আসন থেকে জিততেও পারেননি। এছাড়া তিনজন দলের মনোনয়নপত্রই পাননি।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য ও বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী স্বতন্ত্রদের কাছে পরাজিত হয়েছেন। এই তিন মন্ত্রণালয়ে এবার নতুন মুখ আসতে চলেছে।
এছাড়া এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এই তিন মন্ত্রণালয়েও আসছে নতুন মুখ। এছাড়াও বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রদবদল ও নতুন মুখ আসতে পারে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।
প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন- এমন বেশ কজন নতুন মুখ থাকতে পারেন এবার মন্ত্রিসভায়। এরমধ্যে একাধিক সাবেক আমলার নামও রয়েছে আলোচনায়। এছাড়া বর্তমান মন্ত্রিসভায় থাকা কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদোন্নতি হতে পারে- এমনটিও আলোচনায় রয়েছে।
সূত্র বলছে, এবারের মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
তরুণদের মধ্যে যোগ হতে পারেন ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী-ক্যান্টনমেন্ট) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এ আরাফাত।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম নতুন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন।
টেকনোক্র্যাট কোটায় আবারও মন্ত্রিসভার সদস্য হতে পারেন সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। জামালপুর-৫ (সদর) আসনের এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ এবং নড়াইল-২ আসনের এমপি ও ক্রিকেট তারকা মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকেও মন্ত্রী বানাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হবে। বুধবার বিজয়ী সংসদ সদস্যদের মধ্যে ২৯৮ জনের গেজেট প্রকাশ করা হয়।
দ্বাদশ সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেন আজ বুধবার (১০ জানুয়ারি) সকালে।
গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোট হয়। নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ওই আসনের নির্বাচনের জন্য নতুন করে শিডিউল দেয়া হয়েছে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে। আর সংঘর্ষের ঘটনায় ময়মনসিংহ-৩ আসনের ফলাফল স্থগিত করে দেয়া হয়েছিল। সেই নির্বাচন এ মাসের ১৩ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।
২৯৮ আসনের মধ্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২২২ আসন ও জাতীয় পার্টি ১১টি আসনে জয় পেয়েছে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের হার এবার বেশি। তারা ৬২টি আসনে জয় পেয়েছেন। আর মহাজোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদের প্রার্থী নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে একটি করে আসন পেয়েছেন। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিমও কক্সবাজারের একটি আসন থেকে জয় পেয়েছেন।
নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়ে টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে এবার ইইউ’র বিবৃতি
বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব বড় দল অংশ না নেয়া হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। নির্বাচনে অনিয়ম ও সহিংসতার পূর্ণ তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনী সহিংসতার পাশাপাশি বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে ইইউর পক্ষে ইউরোপের ২৭ দেশের এই জোটের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি জোসেপ বোরেল বলেন, এবারের নির্বাচনে মোট ২৭টি দল অংশগ্রহণ করে। তবে ছিলো না বিএনপির মতো বৃহৎ দলগুলো। এতে হতাশা প্রকাশ করেছে ইইউ। ইইউ-বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।
নির্বাচনে অনিয়মের যেসব খবর এসেছে, সেগুলোর সময়োচিত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জোসেফ বোরেল।
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদর দপ্তর থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন রবিবার (৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনের ফলাফল লক্ষ করেছে। একই সঙ্গে ইইউ-বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব যে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের মূল্যবোধের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত, সে বিষয় পুনর্ব্যক্ত করেছে।
জোসেপ বোরেল বিবৃতিতে বলেন, ইইউ নির্বাচনবিশেষজ্ঞ মিশনের আসন্ন প্রতিবেদন এবং সুপারিশগুলো প্রকাশ করার জন্য কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে হওয়া চুক্তিকে স্বাগত জানায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির একই চেতনায়, আমরা নির্বাচনে অনিয়মের যেসব খবর এসেছে, সেগুলোর সময়োচিত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে বলা হয় , ইইউ নির্বাচনকালে সংঘটিত সহিংসতার নিন্দা জানায় এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। এই সময়কাল এবং এর পরবর্তী সময়ে আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে, বিরোধী নেতা-কর্মীদের আটক অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক বহুত্ববাদ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ডের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং শান্তিপূর্ণ সংলাপে যুক্ত হওয়ার জন্য সব অংশীজনকে জোরালোভাবে উৎসাহিত করছে ইইউ। গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো ধরনের সেন্সরশিপ বা প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই কাজ চালিয়ে যেতে পারার পরিবেশ থাকাটাও জরুরি।
বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হতাশ কানাডা
বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে কানাডা সরকারের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্ট। নিন্দা জানিয়েছে নির্বাচনের আগে ও পরে সহিংসতায়।
কানাডার স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত বিবৃতিতে হতাশা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাংলাদেশ গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার মূল নীতি থেকে ছিটকে পড়েছে। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যেতে সবপক্ষের সঙ্গে স্বচ্ছভাবে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। কার্যকর বিরোধী দল, স্বাধীন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, একটি শক্তিশালী ও সুস্থ গণতন্ত্র নিশ্চিত করার জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া, বিবৃতিতে বাংলাদেশের নাগরিকদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রশংসা ও সমর্থন করে নির্বাচনের আগে ও পরে ঘটে যাওয়া ভয়ভীতি ও সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছে কানাডা।
মুমূর্ষু গণতন্ত্রের দেশে একপক্ষীয় নির্বাচন : নিউইয়র্ক টাইমস্
অন্যায্যতার অভিযোগে বাংলাদেশে বিদ্যমান বিপর্যস্ত বিরোধী পক্ষ নির্বাচন বর্জন করেছে। এ অবস্থায় ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এতে দেশটিতে গণতন্ত্রের কতোটুকু অবশিষ্ট থাকবে, তা-ই এখন বড় প্রশ্ন। শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস্ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। ভারতের নয়াদিল্লি ও ঢাকা অফিসের বরাতে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করলো গণমাধ্যমটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়- দেশটির প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ-বিএনপিকে এরইমধ্যে এতোটা চূর্ণবিচূর্ণ করা হয়েছে যে, তাদের গতিশীল হওয়ার সক্ষমতা খুবই কম রয়েছে। দলটির যেসব নেতা এখনো জেলের বাইরে আছেন তারা আদালতে শত শত মামলার হাজিরায় জর্জরিত। অন্যদিকে যারা বাইরে আছেন তারা গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ একপক্ষীয় প্রতিযোগিতার পথ বেছে নিয়েছে। নির্বাচনে দলটি নিজেদেরই ডামি প্রার্থী দাড় করিয়েছে, যাতে বাহ্যিকভাবে মনে হয়-বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হয়নি।
অন্যদিকে অনেক আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও একটি নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে বিএনপি। কিন্তু তাদের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন শেখ হাসিনা। ফলে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছে।
যখন মনে করা হচ্ছিলো যে- দেশটি হত্যা আর অভ্যুত্থানের ইতিহাসকে পেছনে ফেলে একটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে ঠিক তখনই এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় হয়ে দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় ১৭ কোটি মানুষের এই দেশটি গত কয়েক দশক ধরে প্রধান দুই দলের মধ্যকার পুরনো বিবাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
সরকারবিরোধী পক্ষ বার বার দেশজুড়ে ধর্মঘট, অবরোধ ও গণঅসহযোগ আহ্বান করেছে। জবাবে তাদের উপর কড়া দমনপীড়ন চালানো হয়েছে। দলীয় আইনজীবীদের তথ্যমতে, ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশের পর বিএনপির কমপক্ষে ২০ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কারাগারগুলো উপচে পড়ছে।
মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৮শে অক্টোবর থেকে জেলে নিহত হয়েছেন বিরোধী দলের কমপক্ষে ৯ জন নেতা-কর্মী। নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপি আরও একটি হরতাল আহ্বান করেছে দেশজুড়ে। এর প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ও অন্য অঞ্চলগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে সেনা সদস্যদের।
এরইমধ্যে শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে ঢাকায় একটি ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ও ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা প্রত্যক্ষভাবে বিএনপি-কে দোষারোপ করায় উত্তেজনা আরও বাড়লো বলেই মনে হচ্ছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক পিয়েরে প্রকাশ বলেছেন, নির্বাচনের পর উভয়পক্ষের মধ্যে সহিংসতা বৃদ্ধির ঝুঁকি আছে। যদি বিএনপি ব্যাপক সহিংসতা শুরু করে তাহলে তারা একটি ফাঁদে পা দেবে।
বাংলাদেশ সরকারের সমালোচকরা বলছেন, ৭৬ বছর বয়সি শেখ হাসিনা দেশটিকে একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করছেন। নিরাপত্তা বিষয়ক এজেন্সি থেকে শুরু করে আদালত, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিনি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। যারা তার পথকে সমর্থন করেন না ওইসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে এসব কাঠামোকে ব্যবহার করছেন তিনি ।
শান্তিতে নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ৬ মাসের জেল দেওয়া ছিলো যার সর্বশেষ উদাহরণ। একে ড. ইউনূস রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মামলার রায়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন। জামিনে মুক্ত আছেন তিনি। যদিও সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এ মামলা রাজনৈতিক নয় এবং এটা শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলা।
২০১৪ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার দল পার্লামেন্টের কমপক্ষে অর্ধেক আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়। এবার তা এড়াতে আওয়ামী লীগ ছোট ছোট দলগুলোকে সঙ্গে নিয়েছে। তারা এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, দলটি একটি নতুন 'টোকেন' বিরোধী দল সাজিয়েছে। তাদের অনেকে নির্বাচনী পোস্টারে এটা পরিষ্কার করেছেন তাদের অবস্থান কী: 'আওয়ামী লীগ সমর্থিত'।
বিএনপির নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গৃহবন্দি। তার ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে নির্বাসিত। দলটির বেশির ভাগ নেতাই এখন জেলে। এ অবস্থায় রবিবারের ভোটকে সামনে রেখে দলটি প্রয় দৃষ্টির বাইরে। ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলন চালিয়ে যাচ্ছেন সিনিয়র যুগ্ম
শপথ নিলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা
শপথ নিয়েছেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ২২৫ জন সংসদ সদস্য। বুধবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় শপথের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অন্যান্য কার্যক্রম শেষে শপথ পাঠ করেন সদস্যরা।
পরে তাদের শপথের কাগজে স্বাক্ষর করতে বল হয়। পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে সংসদের রেজিস্ট্রারে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। শপথের পর নির্বাচিত এমপিরা স্পিকারের সামনে শপথ ফরমে স্বাক্ষর করেন।
এমপিদের শপথের আগে প্রথম দফায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী এমপি হিসেবে নিজে শপথগ্রহণ করেন এবং শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করবেন। এর মধ্য দিয়ে একাদশ সংসদ বিলুপ্ত এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হলো।
গতকাল মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করে।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিনদিনের মধ্যে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে হবে। শপথ গ্রহণের পরই তিনি কার্যভার গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবেন।
উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি রোববার সারাদেশে একযোগে ২৯৯ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৯৮ আসনের ফল বেসরকারিভাবে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ২৯৮ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২২৫ আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠা লাভ করেছে। জাতীয় পার্টি পেয়েছে ১১টি আসন, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৬১টি আসন, এ ছাড়া অন্যান্য দল থেকে পেয়েছে ১টি আসন।
Monday, January 8, 2024
হাসিনাকে মোদির ফোন, বললেন টানা চতুর্থ মেয়াদের বিজয় ঐতিহাসিক
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সোমবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটার দিকে মোদি তার এক্স অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এই কথা জানান। টানা চতুর্থ মেয়াদে এই জয়ের জন্য শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তিনি 'সফল নির্বাচনে'র জন্য বাংলাদেশের জনগণেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
পোস্টে মোদি লিখেছেন, আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছি। সংসদ নির্বাচনে টানা চতুর্থবারের মতো ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য তাকে অভিনন্দন জানিয়েছি।
মোদি লিখেছেন, নির্বাচন সফলভাবে পরিচালনার জন্য আমি বাংলাদেশের জনগণকেও অভিনন্দন জানাই। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের স্থায়ী এবং জনকেন্দ্রিক অংশীদারত্বকে আরও জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এর আগে, শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এই জয়ে আমার অভিনন্দন। অভিনন্দন রইল হাসিনা জি ও তার পরিবার এবং তার দল আওয়ামী লীগের প্রতি। যারা এবারের নির্বাচনে জয় পেয়েছেন তাদের সবার প্রতি অভিনন্দন। প্রত্যেককে আমার ও পশ্চিমবঙ্গবাসীর তরফ থেকে অভিনন্দন। হাসিনা জি যেন ভালো থাকেন, আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে এই প্রার্থনা করি।
এদিকে সকালে নির্বাচনে জয়ের জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। ঢাকায় বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে তিনিই সবার আগে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ও অভিনন্দন জানান।
রোববার (৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে আওয়ামী লীগ। গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসন থেকে নির্বাচন করেন শেখ হাসিনা। সেখানে অষ্টমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
Sunday, January 7, 2024
নৌকা নিয়েও স্বতন্ত্রের কাছে হেরে গেলেন মমতাজ
অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর এবারের নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ (সিঙ্গাইর, হরিরামপুর ও সদরের একাংশ) আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করেছেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। তবে শেষ পর্যন্ত বিজয়ের হাসি হাসতে পারলেন না তিনি। তাকে টপকে ট্রাক মার্কা নিয়ে এগিয়ে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহিদ আহমেদ টুলু।
মানিকগঞ্জ ২ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৯৩টি। এরমধ্যে ১৩০ টির ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে নৌকা প্রতীক নিয়ে মমতাজ পেয়েছেন ৫১ হাজার ২৩৩ ভোট। অন্যদিকে ৫৬ হাজার ৩৮৬ ভোট তার থেকে এগিয়ে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহিদ আহমেদ টুল।
এর আগে, নির্বাচনে নিজের অবস্থা সম্পর্কে মমতাজ আরটিভিকে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ্ খুব ভালো ভোটারদের সাড়া পাচ্ছি। আমার বিশ্বাস যে যাই বলুক না কেনো এবারও জয় নৌকারই হবে।
দিনের প্রথম প্রহরে ভোট প্রদান করেছেন মমতাজ। সেসময় ভোটের পরিবেশ নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, সকালের দিকে কিছুটা কম ভোটার। আমার মনে হয় আস্তে-ধীরে ভোটাররা আসবে। আর দুপুরের দিকে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়বে। প্রার্থী হিসেবে দেখলাম, এখানে যারা দায়িত্বে রয়েছেন বিশেষ করে প্রশাসন, তারা খুব কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমার কাছে মনে হয় সবাই যখন জানতে পারবে- সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে, তখন সবাই আসবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়বে।
প্রসঙ্গত, কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম ২০০৮ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এতটা ভালো ভোট হবে আশাও করিনি : সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রত্যাশার চেয়ে অনেক ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এতটা ভালো ভোট হবে আশাও করিনি।
রোববার (৭ জানুয়ারি) রাতে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি বলেন, এবারের নির্বাচন আয়োজনে বিরোধীতা ছিল। সেটাকে অতিক্রম করে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্বাচনে তেমন কোনো সহিংসতা হয়নি। আল্লাহর রহমতে একজনও মারা যাননি। ফলে ভোট নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে কিছু জায়গায় অনিয়ম হয়েছে, সেক্ষেত্রে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। সবদিক থেকে নির্বাচনটা মোটামুটি সুনিয়ন্ত্রিত ছিল।
এর আগে, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে ২৯৯টি আসনে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। এ সময়ে কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্ন গোলযোগ হয়েছে। ৩০ থেকে ৩৫ জায়গায় ভোট কেন্দ্রের বাইরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। কোথাও ভোটকেন্দ্রের পাশে ককটেল বিস্ফোরণেরও ঘটনা ঘটেছে। অনিয়মের কারণে সাতটি কেন্দ্রে ভোট বাতিল করা হয় এবং জাল ভোটে সহায়তা করার জন্য ১৫ ব্যক্তিকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কারচুপি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেছেন বেশ কয়েকজন প্রার্থী।
এবার নির্বাচনে মোট ভোটার ১১ কোটি ৯৭ লাখ। এর মধ্যে ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন পুরুষ, ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন নারী এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ৮৫২। মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ১০৩টি। ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৯১২টি। ভোট হচ্ছে ব্যালট পেপারে।
ইসির দেওয়া তথ্যমতে, নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ভোট হয়েছে ২৯৯ আসনে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নওগাঁ-২ আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। নির্বাচনে ২৮টি দল অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৫৩৪ জন এবং স্বতন্ত্র ৪৩৬ জন। নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ২৬৬ জন প্রার্থী ছিল আওয়ামী লীগের। এ ছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬৫ জন প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় পার্টি এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৩৫ জন প্রার্থী রয়েছেন 'সোনালী আঁশ' প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে আসা তৃণমূল বিএনপি।
এদিকে বিএনপিসহ ৬০টি দল নির্বাচন বর্জন করেছে। দলটি সরকার পতনের এক দফা দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে সফলতা না পেয়ে নির্বাচনের দুই মাস আগ থেকে হরতাল-অবরোধের পথ বেছে নেয়। এতে সরকারকে চাপে ফেলতে না পেরে ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়ে গত ২০ ডিসেম্বর 'অসহযোগ আন্দোলনের' ডাক দেয় দলটি। পাশাপাশি সরকারকে সকল প্রকার কর, খাজনা, পানি, গ্যাস এবং বিদ্যুৎ বিল দেওয়া স্থগিত রাখার অনুরোধ জানায় দলটি।
বিপুল ভোটে জিতে নড়াইলবাসীকে ধন্যবাদ মাশরাফীর
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে বিজয়ী হয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।
রোববার (৭ জানুয়ারি) স্থানীয় সূত্র মতে, ১৪৭ কেন্দ্রে ১ লাখ ৮৯ হাজার ১০২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন মাশরাফী।
মাশরাফীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হাতুড়ি মার্কার শেখ হাফিজুর রহমান। তিনি ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার ৪১টি। এ ছাড়াও ঈগল মার্কার প্রার্থী মোহাম্মদ নূর ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ৩৬৩ ভোট।
এদিকে দ্বিতীয়বারের মতো এমপি পদে নির্বাচিত হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নড়াইলবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক। ফেসবুকে মাশরাফী লিখেছেন, 'ধন্যবাদ নড়াইলবাসী।'
মাগুরা-১ আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত সাকিব
রাজনীতির মাঠে নিজের প্রথম পরীক্ষায় বাজিমাত সাকিব আল হাসানের। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও স্থানীয় সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
রোববার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় সারা দেশে একযোগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে এই কার্যক্রম। এরপর শুরু হয় ভোট গণনার কাজ।
স্থানীয় সূত্রমতে, মাগুরা-১ আসনের ১৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০১টি কেন্দ্র থেকে ১ লাখ ১৯ হাজার ২০৮টি ভোট পেয়েছেন সাকিব। সাকিবের নিকটতম প্রার্থী বাংলাদেশ কংগ্রেস থেকে ডাব মার্কায় অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন পেয়েছেন ৪ হাজার ১২৮টি ভোট। হিসাব অনুযায়ী, বাকি কেন্দ্রগুলোতে আর কোনো ভোট না পেলেও হারার সম্ভাবনা নেই সাকিবের।
মাগুরা-১ আসনে নৌকার প্রার্থী সাকিব আল হাসানসহ ডাব, লাঙ্গল, টেলিভিশন ও সোনালী আশ প্রতীকের মোট পাঁচজন প্রার্থী রয়েছেন। এই আসনে ১৫২টি ভোটকেন্দ্রে ৪ লাখ ৪৮৫ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮৬২ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬২১ জন।
নেতাকর্মীদের বিজয় মিছিল না করার নির্দেশ শেখ হাসিনার
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিজয় মিছিল না করার নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর বরাতে এ নির্দেশনার কথা জানান আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান।
তিনি বলেন, ফলাফল ঘোষণার পর কোনোপ্রকার বিজয় মিছিল না করার নির্দেশনা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে অন্যপ্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সহিংসতা বা আত্মকলহে লিপ্ত না হওয়ার জন্য সাংগঠনিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
নির্বাচন নিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমাদের দলের প্রধান শেখ হাসিনা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন, সরকারপ্রধান হয়েও স্বাধীন-নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে পারেন। আজ সবাই তা প্রত্যক্ষ করেছেন। সর্বাত্মক সহযোগিতা করা, ফ্যাসিলিটেড করা, কোঅপারেশন দিয়ে শেখ হাসিনা যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, সেজন্য শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের যে তথ্য পেয়েছি তাতে নিশ্চিত বলা যায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধিকাংশ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হচ্ছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণ তাদের পছন্দমতো প্রার্থীদের ভোট দিয়েছে। ভোট প্রদানে কোনো ভয়ভীতি বা হস্তক্ষেপ হয়নি। এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে শক্তিশালী করবে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল আন্তর্জাতিক এবং বাংলাদেশের বন্ধুদের। বিদেশি সাংবাদিকরা, আমাদের দেশের সাংবাদিকরা প্রত্যক্ষ করেছেন এই নির্বাচন।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৮টি দল এবারের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তবে দেশের বড় রাজনৈতিক দল হওয়া সত্ত্বেও এ নির্বাচন বয়কট করেছে বিএনপি। দলটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ একাধিক দাবিতে নির্বাচনে অংশ নেয়নি।
Wednesday, January 3, 2024
ভোটের ছুটির ভুয়া প্রজ্ঞাপন ঘুরছে ফেসবুকে
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি ঘোষণার একটি প্রজ্ঞাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে একটি চক্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া প্রজ্ঞাপনটি ভুয়া বলে জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
ভুয়া প্রজ্ঞাপনটিতে ছুটি ঘোষণার অবহেলাকারীদের আর্থিক জরিমানাসহ আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সোনিয়া হাসানের সই দেখিয়ে প্রজ্ঞাপনটি ছড়ানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে সময় সংবাদকে তিনি বলেন, 'এটি ভুয়া প্রজ্ঞাপন। সঠিক প্রজ্ঞাপনটি আমাদের ওয়েবসাইটে আছে।'
এদিকে আগামী ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে গত ২৮ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চাহিদা মোতাবেক দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৭ জানুয়ারি (রোববার) সকল সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস/প্রতিষ্ঠান/সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারী এবং সরকারি, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে সারা দেশে নির্বাচনকালীন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো।
এর আগে ২৪ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন।
ইসির চিঠিতে বলা হয়, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণের দিন অর্থাৎ ৭ জানুয়ারি (রোববার) সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা প্রয়োজন। এ অবস্থায় ৭ জানুয়ারি (রোববার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
‘ইচ্ছা করে শ্বাসনালি পুড়িয়ে ফেলার মতো খারাপ কাজ হতে পারে না’
শ্বাসনালি পুড়ে গেলে মানুষ শ্বাস নিতে পারে না জানিয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন বলেছেন, 'মানুষকে যদি এই যন্ত্রণায় ইচ্ছে করে ফেলে দিই, এর চেয়ে খারাপ কাজ আর হতে পারে না।'
সাম্প্রতিক সময়ে হরতাল-অবরোধের নামে বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস বন্ধে বুধবার (৩ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
'বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট' এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে 'বিএনপি-জামায়াত থামাও সহিংসতা, আমরা মানবতার পক্ষে' প্রতিপাদ্যে মানববন্ধনে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন ও শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয় এবং এই ন্যক্কারজনক রাজনীতি বন্ধের দাবি জানায়।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বার্ন ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন জানান, বিবেকের তাগিদে তিনি এখানে দাঁড়িয়েছেন। বলেন, 'আমি কাছ থেকে রোগীদের দেখি, তাদের কাছে গেলে বোঝা যায় তাদের কী যন্ত্রণা। তাদের যন্ত্রণা দেখে আমি আমার নিজেকে কোনোদিন ক্ষমা করতে পারব না। মানুষ পোড়ানো কোনো রাজনীতি হতে পারে না।'
শ্বাসনালি পুড়ে গেলে মানুষ শ্বাস নিতে পারে না জানিয়ে তিনি বলেন, 'মানুষকে যদি এই যন্ত্রণায় ইচ্ছা করে ফেলে দিই, এর চেয়ে খারাপ কাজ আর হতে পারে না।'
গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশের দিন পিটিয়ে হত্যার শিকার পুলিশ কনস্টেবল মো. আমিরুল ইসলামের স্ত্রী রুমা আক্তার বলেন, 'আমার মেয়ে তার বাবাকে খোঁজে। আমি তার প্রশ্নে উত্তর দিতে পারি না। এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার একটাই দাবি: আমার স্বামীকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার চেয়ে কঠিনভাবে যাতে বিএনপি-জামায়াতকে শাস্তি দেয়া হয়।'
গত ৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে অগ্নিদগ্ধ হয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নেন শিকদার মোহাম্মদ। মানববন্ধনে এসে তিনি বলেন, 'এই বার্ন ইউনিট না থাকলে ৭৫ শতাংশ মানুষ বাঁচত না। আল্লাহর কাছে দোয়া করি এই বার্ন ইউনিট করার জন্য আল্লাহ যেন শেখ হাসিনাকে অনেক বছর বাঁচিয়ে রাখেন।'
সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, '২০১৪ সালের নির্বাচন-পূর্ব সহিংসতায় ৩ হাজার মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়েছিল, ৪৭ জন মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২১ জন সদস্য নিহত হয়েছিলেন। নির্বাচনে দায়িত্বরত ২৬ জন প্রিসাইডিং অফিসারকে হত্যা করা হয়েছিল। ৫ শতাধিক স্কুল ভস্মীভূত করা হয়েছিল এবং আরও অনেক নাশকতা চালানো হয়েছিল। আমরা দেখছি, সেটি অব্যাহত রয়েছে ২০২৩ সালেও। আমরা অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, মানবতার পক্ষে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।'
ফরিদপুরে নৌকার প্রচারণায় সাকিব
ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী শামীম হকের নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণা চালালেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান।
বুধবার (০৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাকিব আল হাসান মাগুরা থেকে প্রচারণায় অংশ নিতে ফরিদপুরে আসেন। শহরের শেখ রাসেল স্কয়ারে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে কিছু সময় অবস্থান নেন।
এরপর সাকিব আল হাসান ফরিদপুর-৩ আসনের নৌকার প্রার্থী শামীম হককে নিয়ে প্রচারণায় বের হন। জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে ছাদ খোলা মাইক্রোবাসের বহর থেকে নৌকার পক্ষে লিফলেট বিতরণ শুরু করেন।
শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, নিউমার্কেট, চকবাজার, জনতা ব্যাংকের মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লিফলেট বিতরণ করে নৌকার পক্ষে ভোট চান সাকিব। এসময় সড়কের পাশে নানা বয়সী মানুষ হাত নেড়ে সাকিবকে শুভেচ্ছা জানান।
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব বলেন, গোটা বাংলাদেশে এখন নির্বাচনের উৎসব মুখর পরিবেশ, আমার ধারণা প্রতিটি জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল ফরিদপুরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় আমি এসেছিলাম, আজ এসেছি শামীম ভাইয়ের নির্বাচনী প্রচারণায়। প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুরের মানুষের প্রতি যে পরিমাণ ভালবাসা দেখিয়েছেন তাতে এ জেলার মানুষ তার প্রতিদান ভোটের মাধ্যমেই দেবেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে ভোটাররা তার প্রতিদান দেবেন। আমি আশা করছি ফরিদপুরের চার আসনেই বিপুল ভোটে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন। সাকিব দেশের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়ী করার আহ্বান জানান।
ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শামীম হকের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ.কে আজাদের ঈগল প্রতীকের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
ভোটের নিরাপত্তায় নৌবাহিনীর ৩ হাজার সদস্য ও ৬ যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার (৩ জানুয়ারি) দেশের উপকূলীয় ৬ জেলার ১১টি আসনে ৩ হাজারেরও বেশি নৌবাহিনীর সদস্য এবং ৬টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়।
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, নৌবাহিনীর সদস্যদের ১১টি সংসদীয় আসন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকাগুলো হচ্ছে — ভোলা ১, ২, ৩ ও ৪, কক্সবাজার ২ ও ৪, চট্টগ্রাম ৩, নোয়াখালী ৬, বরগুনা ১ ও ২ এবং বাগেরহাট-৩।
নির্বাচন উপলক্ষে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য নৌবাহিনীর ৩ হাজারের বেশি নৌ সদস্য এবং ৬টি যুদ্ধজাহাজ ১৯টি উপজেলায় ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
উপজেলাগুলো হচ্ছে, চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ, ভোলা জেলার ভোলা সদর, বোরহান উদ্দিন, দৌলতখান, তজুমুদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন, মনপুরা, নোয়াখালী জেলার হাতিয়া, কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, বরগুনা জেলার বরগুনা সদর, আমতলী, তালতলী, বামনা, বেতাগী, পাথরঘাটা এবং বাগেরহাট জেলার মোংলা।
আইএসপিআর আরও জানায়,নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় বেসামরিক প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য নিয়োজিত রয়েছে নৌবাহিনীর সদস্যরা।