অন্যায্যতার অভিযোগে বাংলাদেশে বিদ্যমান বিপর্যস্ত বিরোধী পক্ষ নির্বাচন বর্জন করেছে। এ অবস্থায় ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এতে দেশটিতে গণতন্ত্রের কতোটুকু অবশিষ্ট থাকবে, তা-ই এখন বড় প্রশ্ন। শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস্ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। ভারতের নয়াদিল্লি ও ঢাকা অফিসের বরাতে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করলো গণমাধ্যমটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়- দেশটির প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ-বিএনপিকে এরইমধ্যে এতোটা চূর্ণবিচূর্ণ করা হয়েছে যে, তাদের গতিশীল হওয়ার সক্ষমতা খুবই কম রয়েছে। দলটির যেসব নেতা এখনো জেলের বাইরে আছেন তারা আদালতে শত শত মামলার হাজিরায় জর্জরিত। অন্যদিকে যারা বাইরে আছেন তারা গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ একপক্ষীয় প্রতিযোগিতার পথ বেছে নিয়েছে। নির্বাচনে দলটি নিজেদেরই ডামি প্রার্থী দাড় করিয়েছে, যাতে বাহ্যিকভাবে মনে হয়-বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হয়নি।
অন্যদিকে অনেক আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও একটি নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে বিএনপি। কিন্তু তাদের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন শেখ হাসিনা। ফলে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছে।
যখন মনে করা হচ্ছিলো যে- দেশটি হত্যা আর অভ্যুত্থানের ইতিহাসকে পেছনে ফেলে একটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে ঠিক তখনই এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় হয়ে দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় ১৭ কোটি মানুষের এই দেশটি গত কয়েক দশক ধরে প্রধান দুই দলের মধ্যকার পুরনো বিবাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
সরকারবিরোধী পক্ষ বার বার দেশজুড়ে ধর্মঘট, অবরোধ ও গণঅসহযোগ আহ্বান করেছে। জবাবে তাদের উপর কড়া দমনপীড়ন চালানো হয়েছে। দলীয় আইনজীবীদের তথ্যমতে, ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশের পর বিএনপির কমপক্ষে ২০ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কারাগারগুলো উপচে পড়ছে।
মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৮শে অক্টোবর থেকে জেলে নিহত হয়েছেন বিরোধী দলের কমপক্ষে ৯ জন নেতা-কর্মী। নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপি আরও একটি হরতাল আহ্বান করেছে দেশজুড়ে। এর প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ও অন্য অঞ্চলগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে সেনা সদস্যদের।
এরইমধ্যে শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে ঢাকায় একটি ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ও ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা প্রত্যক্ষভাবে বিএনপি-কে দোষারোপ করায় উত্তেজনা আরও বাড়লো বলেই মনে হচ্ছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক পিয়েরে প্রকাশ বলেছেন, নির্বাচনের পর উভয়পক্ষের মধ্যে সহিংসতা বৃদ্ধির ঝুঁকি আছে। যদি বিএনপি ব্যাপক সহিংসতা শুরু করে তাহলে তারা একটি ফাঁদে পা দেবে।
বাংলাদেশ সরকারের সমালোচকরা বলছেন, ৭৬ বছর বয়সি শেখ হাসিনা দেশটিকে একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করছেন। নিরাপত্তা বিষয়ক এজেন্সি থেকে শুরু করে আদালত, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিনি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। যারা তার পথকে সমর্থন করেন না ওইসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে এসব কাঠামোকে ব্যবহার করছেন তিনি ।
শান্তিতে নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ৬ মাসের জেল দেওয়া ছিলো যার সর্বশেষ উদাহরণ। একে ড. ইউনূস রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মামলার রায়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন। জামিনে মুক্ত আছেন তিনি। যদিও সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এ মামলা রাজনৈতিক নয় এবং এটা শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলা।
২০১৪ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার দল পার্লামেন্টের কমপক্ষে অর্ধেক আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়। এবার তা এড়াতে আওয়ামী লীগ ছোট ছোট দলগুলোকে সঙ্গে নিয়েছে। তারা এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, দলটি একটি নতুন 'টোকেন' বিরোধী দল সাজিয়েছে। তাদের অনেকে নির্বাচনী পোস্টারে এটা পরিষ্কার করেছেন তাদের অবস্থান কী: 'আওয়ামী লীগ সমর্থিত'।
বিএনপির নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গৃহবন্দি। তার ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে নির্বাসিত। দলটির বেশির ভাগ নেতাই এখন জেলে। এ অবস্থায় রবিবারের ভোটকে সামনে রেখে দলটি প্রয় দৃষ্টির বাইরে। ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলন চালিয়ে যাচ্ছেন সিনিয়র যুগ্ম

0 coment rios: