শ্বাসনালি পুড়ে গেলে মানুষ শ্বাস নিতে পারে না জানিয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন বলেছেন, 'মানুষকে যদি এই যন্ত্রণায় ইচ্ছে করে ফেলে দিই, এর চেয়ে খারাপ কাজ আর হতে পারে না।'
সাম্প্রতিক সময়ে হরতাল-অবরোধের নামে বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস বন্ধে বুধবার (৩ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
'বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট' এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে 'বিএনপি-জামায়াত থামাও সহিংসতা, আমরা মানবতার পক্ষে' প্রতিপাদ্যে মানববন্ধনে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন ও শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয় এবং এই ন্যক্কারজনক রাজনীতি বন্ধের দাবি জানায়।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বার্ন ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন জানান, বিবেকের তাগিদে তিনি এখানে দাঁড়িয়েছেন। বলেন, 'আমি কাছ থেকে রোগীদের দেখি, তাদের কাছে গেলে বোঝা যায় তাদের কী যন্ত্রণা। তাদের যন্ত্রণা দেখে আমি আমার নিজেকে কোনোদিন ক্ষমা করতে পারব না। মানুষ পোড়ানো কোনো রাজনীতি হতে পারে না।'
শ্বাসনালি পুড়ে গেলে মানুষ শ্বাস নিতে পারে না জানিয়ে তিনি বলেন, 'মানুষকে যদি এই যন্ত্রণায় ইচ্ছা করে ফেলে দিই, এর চেয়ে খারাপ কাজ আর হতে পারে না।'
গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশের দিন পিটিয়ে হত্যার শিকার পুলিশ কনস্টেবল মো. আমিরুল ইসলামের স্ত্রী রুমা আক্তার বলেন, 'আমার মেয়ে তার বাবাকে খোঁজে। আমি তার প্রশ্নে উত্তর দিতে পারি না। এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার একটাই দাবি: আমার স্বামীকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার চেয়ে কঠিনভাবে যাতে বিএনপি-জামায়াতকে শাস্তি দেয়া হয়।'
গত ৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে অগ্নিদগ্ধ হয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নেন শিকদার মোহাম্মদ। মানববন্ধনে এসে তিনি বলেন, 'এই বার্ন ইউনিট না থাকলে ৭৫ শতাংশ মানুষ বাঁচত না। আল্লাহর কাছে দোয়া করি এই বার্ন ইউনিট করার জন্য আল্লাহ যেন শেখ হাসিনাকে অনেক বছর বাঁচিয়ে রাখেন।'
সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, '২০১৪ সালের নির্বাচন-পূর্ব সহিংসতায় ৩ হাজার মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়েছিল, ৪৭ জন মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২১ জন সদস্য নিহত হয়েছিলেন। নির্বাচনে দায়িত্বরত ২৬ জন প্রিসাইডিং অফিসারকে হত্যা করা হয়েছিল। ৫ শতাধিক স্কুল ভস্মীভূত করা হয়েছিল এবং আরও অনেক নাশকতা চালানো হয়েছিল। আমরা দেখছি, সেটি অব্যাহত রয়েছে ২০২৩ সালেও। আমরা অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, মানবতার পক্ষে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।'

0 coment rios: