যশোরে টানা হরতাল অবরোধে কমেছে শীতকালীন সবজির দাম; বেড়েছে পরিবহণ খরচ। বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সবজির বাজারজাত নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, যশোরের বারীনগর, সতমাইল, চুড়ামনকাটি, খাজুরা, চৌগাছার বিস্তীর্ণ এলাকায় চাষ হয় সবজি। মৌসুমি সবজি চাষের পাশাপাশি একটু বেশি লাভের আশায় আগাম সবজি চাষও করেন এ এলাকার চাষিরা। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছরও আবাদ হয়েছে: মূলা, পাতাকপি, ফুলকপি, বেগুন, সিম, বরবটিসহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজির।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, যশোর জেলায় শীত মৌসুমে প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ করেছেন চাষিরা। বছরে জেলায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন সবজি আবাদ হয়। যার মধ্যে ৩ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত সবজি ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। গত কয়েক বছর সবজির ভালো দাম পেলেও এ বছর বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শীতকালীন সবজি বাজারজাত নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।
তাদের দাবি, টানা হরতাল অবরোধেই সবজির দাম কমেছে। বেড়েছে পরিবহণ খরচও। লাগাতার হরতাল অবরোধ হলে ২০১৪ সালের মতো চরম ক্ষতির শিকার হবেন তারা। উৎপাদন খরচ ওঠানো দায় হয়ে যাবে। পরবর্তীতে এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।
শাজাহান আলী নামে এক কৃষক বলেন, হরতাল অবরোধ হলে কৃষককে লোকসান গুনতে হয়। দুই বিঘা জমিতে মূলা চাষ করেছি। সপ্তাহখানেক ধরে বাজারে মূলা বিক্রি করছি। হরতালের আগ পর্যন্ত কেজি প্রতি ৪০-৪৫ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলেও আজ বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) সর্বোচ্চ ২৫ টাকা কেজি বিক্রি করতে হয়েছে।
আব্দুর রাজ্জাক নামে অপর এক কৃষক বলেন, লাগাতার হরতাল হলে আমরা উৎপাদন খরচের টাকাই তুলতে পারব না। আমরা চাই সবজির গাড়ি ও হাট বাজার হরতাল অবরোধের বাইরে রাখা হোক।
জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, এই হরতাল অবরোধে গাড়ি ভাড়া সাত থেকে ১০ হাজার টাকা বেড়ে গেছে। তারপরও মাল পাঠিয়ে শান্তিতে থাকতে পারি না। ট্রাকে কেউ আগুন ধরিয়ে দিলো কিনা এই দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।
লিখন হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্নতির কোনো লক্ষণ নেই। ফলে কৃষি পণ্য পরিবহনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি। এক্ষেত্রে বিকল্প পরিবহন হিসেবে ট্রেন ব্যবহারের ব্যবস্থা করলে আমাদের জন্য ভালো হতো।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার এ খাতের সুরক্ষায় কৃষিপণ্য হরতাল অবরোধের আওতামুক্ত রাখা অথবা ট্রেনে পরিবহনের উদ্যোগ নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। নইলে কেবল কৃষক নয় এক খাতের সঙ্গে জড়িত সব ধরনের পেশার মানুষ বড় ধরনের ক্ষতি শিকার হবেন।

0 coment rios: