Friday, September 15, 2023

শেষের নাটকীয়তায় ফাইনালে শ্রীলঙ্কা, ছিটকে গেল পাকিস্তান

বৃষ্টিবিঘ্নিত দিনে রান তাড়ায় নেমে ৪০ ওভার পর্যন্ত ম্যাচ নিজেদেরই নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল শ্রীলঙ্কা। শেষ দুই ওভারে গিয়ে লড়াইটা জমিয়ে তুলে পাকিস্তান। লঙ্কানদের জয় প্রায় কেড়েই নিচ্ছিল বাবর আজমরা। তবে বাধা হয়ে দাঁড়ালেন চারিথ আসালাঙ্কা। ইনিংসের একেবারে শেষ বলে জয়সূচক ২ রান তুলে নিয়ে হতাশ করেন শাহিন আফ্রিদি-জামান খানদের।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এশিয়া কাপের অলিখিত সেমিফাইনালে শেষ দুই ওভারের রোমাঞ্চ শেষে ২ উইকেটের জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এদিন ২৫৩ রান তাড়ায় নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে ইনিংসের শেষ বলে জয়ের দেখা পায় স্বাগতিকরা।

এদিকে সুপার ফোরে তিন ম্যাচের দুটি হেরে আসর থেকে ছিটকে গেছে পাকিস্তান। শিরোপার লড়াইয়ে রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভারতের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা।

বৃষ্টির কারণে এদিন ওভার কমে নির্ধারণ হয়েছিল ৪২ ওভারে। রান তাড়ায় নেমে প্রথম ৪০ ওভার পর্যন্ত ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই রেখেছিল শ্রীলঙ্কা। ৫ উইকেট হারিয়ে ২৪০ রান স্বাগতিকদের স্কোরকার্ডে। শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন মাত্র ১২ রান। ক্রিজে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ও চারিথ আসালাঙ্কা। কিন্তু ৪১তম ওভারে আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। ৯ বলে যখন ৯ রান প্রয়োজন তখন তাকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন ধনাঞ্জয়া। ক্রিজে এসেই কট বিহাইন্ড হয়ে মাঠ ছাড়েন দুনিখ ভেল্লালাগে। শেষ বলে ১ রান দেন আফ্রিদি। জয়ের জন্য তখনো লঙ্কানদের প্রয়োজন ৬ বলে ৮ রান, হাতে উইকেট ৩।

আক্রমণে এসে জামান খানের প্রথম তিন বলে ২ রান তুলে নেন প্রমোদ মদুশান ও আসালাঙ্কা। চতুর্থ বলে আসালাঙ্কাকে স্ট্রাইক দিতে গিয়ে রান আউট হন মদুশান। তাতে শেষ দুই বলে প্রয়োজন পড়ে ৬ রানের। ওভারের পঞ্চম বলটি কোনোরকম ব্যাটে লাগিয়ে উইকেটরক্ষক ও শর্ট থার্ডের মাঝে পাঠিয়ে বাউন্ডারি আদায় করে নেন আসালাঙ্কা। আর শেষ বলে বুঝেশুনে বল গ্যাপে পাঠিয়ে ২ রান তুলে নিশ্চিত করে নেন জয়। ৪৭ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

এর আগে শুরু থেকে দাপুটে ছিল লঙ্কান ব্যাটাররা। ৮ বলে ৪ চারের মারে ১৭ রান করা কুশাল পেরেরা আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠার আগে তাকে রান আউট করে থামান শাদাব খান। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে কুশল মেন্ডিসের সঙ্গে ৫৭ রানের জুটি গড়ে মাঠ ছাড়েন পাথুম নিসাঙ্কা। ৪৪ বলে ৪ চারের মারে ২৯ করে তিনি শাদাবের শিকার হন। এরপর তৃতীয় উইকেটে পুরো ম্যাচটাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন মেন্ডিস ও সাদিরা সামারাবিক্রমা। দুজনের জুটিতে আসে ১০০ রান। ৩০ ওভারের মধ্যে ১৭৯ রান তুলে চালকের আসনে বসে যায় শ্রীলঙ্কা। দলীয় ১৭৭ রানে ইফতিখার আহমেদকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলতে গিয়ে স্টাম্পিং হন সামারাবিক্রমা। তার ব্যাট থেকে আসে ৫১ বলে ৪৮ রান।

অপরপ্রান্তে আগলে রেখে অবশ্য ফিফটি হাঁকিয়ে নেন মেন্ডিস। তিনি থামেন দলীয় ২১০ রানে। ইফতিখারের ঘূর্ণি পড়তে ভুল করে ক্যাচ তুলে দেন শর্ট মিড-অফে দাঁড়িয়ে থাকা মোহাম্মদ হারিসের হাতে। বল তালুবন্দি করতে অবশ্য ঝুঁকি নিয়ে ডাইভ দিতে হয়েছে পাক ফিল্ডারকে। ৮৭ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৯১ রান করে ততক্ষণে অবশ্য লঙ্কানদের জয়ের পথটা মসৃণ করে দেন মেন্ডিস। পাকিস্তানের হয়ে এদিন ৩ উইকেট নেন ইফতিখার। ২ উইকেট নেন শাহিন।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৪২ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫২ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। টানা দুই ম্যাচ জিতে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। দুই হারে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। তাতে একটি করে জয় পাওয়া পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার লড়াইটা পরিণত হয়েছে অলিখিত সেমিফাইনালে। এমন সমীরকণে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। কলম্বোয় এদিনও ছিল বৃষ্টির বাধা থাকায় ম্যাচ শুরু হয় নির্ধারিত সময়ের একটু পরে। উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৯ রান তুলে পাকিস্তান। ব্যক্তিগত ৪ রানে প্রমোদ মদুশানের শিকার হয়ে ফিরে যান ফখর জামান। এরপর আবদুল্লাহ শফিক ও বাবর আজম মিলে দলের হাল ধরেন। বাবর আজম নিজেকে মেলে ধরবেন, এমন সময় তাকে বোকা বানিয়ে উইকেট তুলে নেন দুনিথ ভেল্লালাগে। ৩৫ বলে ২৯ রান করেন পাকিস্তান অধিনায়ক।

এরইমধ্যে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন ওপেনার শফিক। অর্ধশতক করলেও এরপর খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। ৫২ রানে মাথিশা পাথিরানার বলে ধরা পড়েন মদুশানের হাতে। তার ৬৯ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ২টি ছয়ের মার। কিছুক্ষণ পর ফিরে যান মোহাম্মদ হারিসও। তার উইকেটও নেন পাথিরানা।

বৃষ্টির নামার ঠিক আগে আউট হন মোহাম্মদ নেওয়াজ। ১২ বলে ১২ রান করেন তিনি। ২৭.৪ ওভারে ১৩০ রান করার পর বৃষ্টি নামে। কিছুক্ষণ পর আবার খেলা শুরু হলেও ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে ৪২ ওভারে নেমে আসে। তখন ২২ রান


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: