বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন কার্যত ভেঙে গেছে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হারের পর ব্যর্থতা স্বীকার করেই নিয়েছেন টাইগার দলপতি সাকিব আল হাসান। এখন সম্মানজনক অবস্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করতে চায় বাংলাদেশ। তবে লক্ষ্য আছে আরও একটা। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে জায়গা করে নেওয়া। কিন্তু সেই পথটাও কঠিন হয়ে গেছে টাইগারদের জন্য।
২০২৫ সালে পাকিস্তানের মাটিতে বসবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসর। 'নকআউট বিশ্বকাপ' নামে পরিচিত এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয় আট দল নিয়ে। বিশ্বকাপে সেরা সাতে থাকা দলগুলোর সঙ্গে স্বাগতিক পাকিস্তানকে নিয়ে হবে এবারের আসর। তাই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে হলে কমপক্ষে সপ্তম অবস্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করতে হবে বাংলাদেশকে।
৬ ম্যাচে মাত্র ১টি জয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে নয় নম্বরে আছে বাংলাদেশ। সপ্তম স্থানে থেকে শেষ করতে হলে শেষ তিন ম্যাচে কমপক্ষে দুটিতে জিততেই হবে বাংলাদেশকে। শেষ তিন ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়া। তাই কাজটি যথেষ্ট কঠিনই হবে সাকিবদের জন্য।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাছাইয়ের পদ্ধতিটি আইসিসির একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল বাছাইয়ের এই পদ্ধতি আইসিসির বোর্ড ২০২১ সালেই অনুমোদন দিয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া এই টুর্নামেন্ট ২০২৪-৩১ চক্রে ফিরিয়ে আনার ঘোষণাও সে সময়েই দিয়েছিল সংস্থাটি।
তবে দল বাছাইয়ের প্রক্রিয়াটা অনেক বোর্ডের জন্যই বিস্ময়ের কারণ হয়ে এসেছে। যায়ের মধ্যে অনেকেই ভারতের মাটিতে এই মুহূর্তে বিশ্বকাপ খেলছে। তারা ক্রিকইনফোকে জানিয়েছে, তারা টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসেও বাছাই প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে অবগত ছিল না।
এই পদ্ধতিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল বাছাই হওয়া মানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের মতো আইসিসির পূর্ণ সদস্য দলও এই মর্যাদাপূর্ণ আসরে খেলার জন্য বিবেচনাতেও আসছে না। কারণ এবারের বিশ্বকাপের বাছাই পর্বই পার হতে পারেনি তারা।
গতকাল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হারের পর সাকিবই প্রথম ব্যাপারটা সামনে আনেন। সংবাদ সম্মেলনে সাকিব জানিয়েছিলেন, টানা হারে তাদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে জায়গা করে নেওয়াটাই এখন শঙ্কায়। এরপরই বাকি দলগুলোও এ বিষয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠে।

0 coment rios: