ফরিদপুর হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় নয়ন খাঁন (৯৫) নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে সংঘর্ষে রোগীর স্বজনসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। বীর মুক্তিযোদ্ধা নয়ন খাঁন শহরের কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন- আলমগীর বিশ্বাস (২৮), তৌহিদ বিশ্বাস (২৫), আলিফ খান (১৪) ও হামজা খান (১২), মেয়ে জেসমিন (৪২), সাবিনা ইয়াসমিন (৫০), রেবেকা সুলতানা মনি (৩৫), হাসপাতালের স্টাফ অর্ণব (২৬), ইন্টার্ণ ডাক্তার মাহমুদুল (২৬), শামিম (২৪), রোকন (২৪), শিহাব (২৪), এজাজ (২৬), মহিন (২৬), শাকিব (২৬), পাভেল (২৬), ইসতেফার (২৪), জাহিদ (২৬), সাব্বির (২৬) ও ফরহাদ (২৬)।
নয়ন খানের নাতি আলমগীর বিশ্বাস বলেন, রাত ১২টার দিকে নানার শ্বাসকষ্ট হলে নার্সদের জানাই। তারা ইমার্জেন্সিতে চিকিৎসককে জানাতে বলেন। এরপর ইমার্জেন্সিতে কর্তব্যরত চিকিৎসককে রোগীকে ওয়ার্ডে গিয়ে একটু দেখার জন্য এবং পরে অক্সিজেন দেয়ার ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানাই। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থাই নেননি। কিছুক্ষণ পর এসে দেখি আমার নানা মারা গেছেন।
আরও পড়ুন: 'ভুল চিকিৎসা'য় রোগীর মৃত্যু, নার্সকে থাপ্পড়ের ঘটনায় স্বজনদের মারধর
আলমগীর বলেন, এ সময় চিকিৎসকদের সঙ্গে আমাদের কথা কাটাকাটি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আমার মা আমাকে সেখান থেকে সরিয়ে একটি বাথরুমে আটকে রাখেন। এরপর প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জনের মতো এসে বাথরুম থেকে বের করে আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় আমরা ১০ জন আহত হয়েছি।
এছাড়া ঘটনার সময় মৃতের পাশে বসে আহাজারি করতে থাকা স্ত্রী হালিমা বেগমকেও (৮৫) ধাক্কা মেরে সিট থেকে ফেলে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। আহতদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের ৩ সদস্যকে পুলিশ হেফাজতে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
অপরদিকে, এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেন, রোগীর স্বজনরা আমাদের কাছে অক্সিজেন চেয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের কাছে সরবরাহ করার মতো অক্সিজেন না থাকায় আমরা তাদের বাইরে থেকে অক্সিজেন এনে রোগীকে দেয়ার জন্য একটি স্লিপও লিখে দেই। কিন্তু এতে তারা রাজি না হলে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা আমাদের ওপর হামলা করেন। এতে আমাদের কয়েকজন আহত হন।
এ ব্যাপারে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। আহতরা আশঙ্কামুক্ত। মৃত ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজনদের থানায় নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের চিকিৎসকগণ মিটিংয়ে বসেছেন। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এনামুল হক বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিনই কমবেশি ঝামেলা হয়। আমি বর্তমানে ছুটিতে হাসপাতালে বাইরে রয়েছি। তবে গতরাতে একটি মারামারির কথা জানতে পেরেছি। বিস্তারিত জেনে পরবর্তীতে জানানো সম্ভব হবে।

0 coment rios: