Sunday, August 27, 2023

শিক্ষার্থীদের এক দফা দাবি: অবরুদ্ধ নীলক্ষেত, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

এক দফা দাবিতে চূড়ান্তভাবে আন্দোলনে নেমেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। এরই জেরে নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করেছে তারা। এতে বন্ধ হয়ে গেছে আজিমপুর-মিরপুর সড়কের যান চলাচল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রবিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে এসে নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেয় তারা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, ঢাবি প্রশাসন তাদের সঙ্গে প্রহসন করছে।  এসময় 'নয় মাসে রেজাল্ট কেন, জবাব চাই জবাব চাই' 'ঢাবি তোমার প্রহসন, মানি না মানবো না', 'এক দফা এক দাবি, মেনে নাও মেনে নাও', 'সাত কলেজের এক দাবি মানতে হবে মানতে হবে' সহ প্রমোশনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের।

তারা বলেন, ঢাবি ফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি করেছে। যার ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। এই দায়ভার সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজ প্রশাসনকে নিতে হবে। সাত কলেজের সক্ষমতা না থাকা এবং নানামুখী সংকটের পরও বিশ্ববিদ্যালয় জোর করে সিজিপিএ শর্ত চাপিয়ে দিয়েছে।

ডিএমপির রমনা বিভাগেরে নিউ মার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রেফাতুল ইসলাম বলেন, এর আগেও তারা একাধিকবার আন্দোলন করেছে। তখন তাদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আজকে তারা কোনো কথা শুনতে চাচ্ছে না। উল্টো আত্মহননের মতো ঘটনা ঘটাবে বলে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নারী পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আজকে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে জনদুর্ভোগ চরমে। এই পরিস্থিতিতে আমরা চেষ্টা করছি কিভাবে তাদের বিষয়টি সমাধানের দিকে নেওয়া যায়।

প্রসঙ্গত, ঢাবির সিজিপিএ নীতিমালার শর্ত হচ্ছে- কোনো শিক্ষার্থী ২.৫০ এর নিচে পেলে তাকে অকৃতকার্য হিসেবে একই ক্লাশে পুনরায় সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তা মানতে রাজি নয়।

তাদের দাবি- সব বিষয়ে পাশ করার পরও সিজিপিএ এর কারণে একই বর্ষে পরীক্ষা দেওয়ার শর্ত শিথিল করে পরবর্তী বর্ষে প্রমোশনের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে পরীক্ষা শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে ফল প্রকাশ করতে হবে। এসব  দাবিতে নীলক্ষেতে অবরোধ, প্রেসক্লাবে অনশনসহ বিভিন্নভাবে প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছেন সাত কলেজের স্নাতকের (২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯, ২০১৯-২০২০ ও ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীরা।

তবে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা এমন দাবিতে আন্দোলন করলেও ঢাবি তাদের সিদ্ধান্তে অনড় এখনো।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: