ব্রিকসকে বহুপাক্ষিক বিশ্বের বাতিঘর হয়ে উঠতে হবে- এমন প্রত্যাশা তুলে ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর ওপর কোনো পছন্দ বা বিভক্তি চাপানো সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্লাটা নিষেধাজ্ঞা থেকে বিরত থাকতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বে শান্তি স্থিতিশীলতা ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে পারলে একযোগে এগিয়ে যাবে সবাই।
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের তৃতীয় ও শেষ দিন জোহানেসবার্গের স্যান্ডটন কনভেনশন সেন্টারে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শুরু হয় ব্রিকস-আফ্রিকা আউটরিচ ও ব্রিকস প্লাস ডায়লগ সেশন। এতে বক্তব্য দেন ব্রিকস সদস্যরাষ্ট্র ছাড়াও আমন্ত্রিত ৬৫টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান। স্থানীয় সময় দুপুর ৩টায় ব্রিকস প্ল্যাটফর্মে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিক্রমা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, শত প্রতিকূলতা অতিক্রম করেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। নিষেধাজ্ঞার খেলা ভুলে এখন সময় সমন্বিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার। এক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অযাচিত চাপ না দেয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
লিডার্স ডায়লগে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এ সম্মেলন শেষ হওয়ার পাশাপাশি এ জোটটির সদস্যপদ পেতে অপেক্ষার প্রহর বাড়লো বাংলাদেশের।
শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা সহযোগিতা বাড়াতে পারি সন্ত্রাস, মানবপাচার, সাইবার অপরাধ ও অর্থপাচার প্রতিরোধে। আমাদের অবশ্যই প্রত্যাখ্যান করতে হবে অস্ত্রের খেলা, বন্ধ করতে হবে নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞা। আমাদেরকে দায়িত্ব নিতে হবে বিশ্বব্যাপী শান্তি, ন্যায়বিচার ও স্থিতিশীলতায়। আমি আশা করি, ব্রিকস হবে বহুপাক্ষিক বিশ্বের বাতিঘর আর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্লাটফর্ম।'
সম্মেলনের ফাঁকে আমন্ত্রিত সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ফটোসেশনেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে সম্মেলনস্থলে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় ব্রাজিল, ইরান, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট, ভারতের প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের। এসময় তারা পরষ্পর কুশল বিনিময় করেন এবং কথা বলেন নানা ইস্যুতে।
কলেবর বাড়লো পাঁচ সদস্য দেশের কৌশলগত জোট ব্রিকসের। নতুন সদস্যপদ পেল ছয়টি রাষ্ট্র। এর মাধ্যমেই পর্দা নামলো এবারের ব্রিকস আসরের।

0 coment rios: